ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার নামে নারীকে অপমান করতে দেয়া হবে না : জামাত আমীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 28, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
খুলনা ব্যুরো :

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে কটাক্ষ করে বলেন, আশ্চর্যের বিষয় আমাদের একটি বন্ধু সংগঠন জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার ঘোষণা করেছেন। তারা এও বলেছেন এ ফ্যামিলি কার্ড তারা মায়ের হাতে দিবেন। তারা একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে আর আরেক দিকে দিচ্ছে মায়ের গায়ে হাত। এই দুইটা একসাথে চলবে না। আমরা অনুরোধ করবো নিজের মাকে সম্মান করুন। যদি আপনি নিজের মাকে সম্মান করতে পারেন তাহলে আপনি মায়ের জাতিকে সম্মান করতে পারবেন। আর যদি আপনি নিজের মাকে সম্মান করতে না পারেন তাহলে বাংলাদেশের একজন নারীকেও সম্মান করতে পারবেন না। তারা কার্ড দেওয়ার নামে আমার মায়েদের গায়ে হাত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চাচ্ছে। আমরা সেটা হতে দেব না” বলে এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আজকে বিভিন্ন জায়গায় হামলা হয়েছে মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। এই মাঘ মাসে মাথা গরম হয় তাহলে চৈত্র মাসে কি করবেন। জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। অতীতে জনগণের রায়কে যারা সম্মান করে নাই তাদের পরিণতি কি হয়েছে তা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। 

তিনি বলেন, জনগণের রায়ে হাত দিতে পারবেন, জনগণের পিঠে চাবুক মারতে পারবেন কিন্তু জনগণের হৃদয় কখনো জয় করতে পারবেন না। যদি হৃদয় ও কলিজা জয় করতে হয় তাহলে তাদের নিজের নিজের মায়ের জাতিকে সম্মান করতে হবে। আমাদের কথা একেবারেই স্পষ্ট জীবন দিব কিন্তু আমাদের মায়ের ইজ্জত দিব না। মায়ের জাতের জন্য লড়ে যাবে। সুতরাং মেহেরবানী করে এ কাজ করবেন না যারা করেছেন মেহেরবানী করে মাপ চেয়ে নেবেন আল্লাহ তাদেরকে মাফ করে দিবেন।

জামাত আমীর বলেন, খুলনার শিল্প ৫৪ বছরে বিকশিত না হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে আছে। দুনিয়া একদিকে শিল্পর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর অন্যদিকে আমরা শিল্পকে একটা একটা করে খুন করছি। আপনাদের স্মরণ থাকার কথা ২০০১ থেকে ২০০৬ চারদিনে যুদ্ধের একটা সরকার ছিল আমাদের সেই সময়ের সম্মানিত আমির শহীদ মতিউর রহমান নিজামী তিনি পৌনে দুই বছরের মাথায় শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন দায়িত্ব হাতে নিয়ে বলেছিলেন আল্লাহ তৌফিক দিলে নতুন করে আরেকটি শিল্প কারখানা বন্ধ হতে দেব না। তিনি বলেন আমার দিয়ে যোগ্যতা আছে তা দিয়ে দেশের তালাবদ্ধ কারখানা গুলি খুলে দেবো। তার রেখে যাওয়া দায়বদ্ধতা জামাতে ইসলাম ইনশাআল্লাহ পূরণ করবে। শিল্প কারখানা বন্ধ হওয়া একজন মানুষ বেকার হয়নি এখানে একজন মানুষ বেকার হওয়ার সাথে সাথে পুরো পরিবার বেকার হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ যদি আমাদেরকে বাংলাদেশের জনগণকে সেবা করার সুযোগ দেয় তাহলে বন্ধ হওয়া প্রত্যেকটা শিল্প কারখানায় একে একে খুলে দিয়ে নতুন করে শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে। 

খুলনার বর্তমান বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুলনাবাসীর সঙ্গে বসে ডায়ালগ করা হবে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বেকারদের বেকারভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করতে চাই। বেকারদের কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নতুন বাংলাদেশের কারিগর তৈরি করার মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করতে চাই।” 
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে তাদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হবে-বাড়িতে ও কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায় মায়ের মর্যাদা এবং পূর্ণ নিরাপত্তা।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমি খুলনায় জামায়াতের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়াইনি। সন্তানহারা মায়ের কান্না দূর করতে, ভাই হারানো বোনের আর্তনাদ দূর করতে, এতিমদের পক্ষে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি।” তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশবাসীকে বলেছিলাম-আমার দলের নেতাকর্মীরা জুলুম, হামলা, মামলা ও হত্যার শিকার হয়েছে। কিন্তু আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না। আমরা কথা রেখেছি। যে কারণে দেশের ১৮ কোটি মানুষ বুঝতে পেরেছে, আমাদের কাছে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ।”
জামায়াত আমীর জনসভায় আগত সবাইকে জনগনের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা প্রত্যেকটি নর নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিন্ত আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমার একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দু:শাসনের কালে এবং তারও আগে ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তান্ডবে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। সেই সাথে আহত, পঙ্গু, কারা নির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আমিরে জামায়াতের কাছে খুলনাবাসীর পক্ষে বিলডাকাতিয়া, বিলবাদুড়িয়াসহ সব বিলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তুলে ধরেন।

খুলনা-২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের সঞ্চালনায় নির্বাচনী সভায় আরও বক্তব্য দেন জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী।

এতে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক নিজাম উদ্দিন অমিত, এনসিপির খুলনা জেলা আহ্বায়ক মো. ফয়জুল্লাহ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কার সিদ্দিক মোড়ল, লেবার পার্টির প্রতিনিধি মো. সাইফুদ্দোহা, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, খেলাফত মজলিস খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম, খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক, খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি এফ এম হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির খুলনা মহানগর সভাপতি এডভোকেট হানিফ উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিল, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জাকির হোসেন খান, মহানগরী জামায়াতের সহকারী এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য খুলনা মহানগরী সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, খুলনা জেলা উত্তরের সভাপতি ইউসুফ ফকির, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার গিফারীসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, মহানগরী ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  খুলনার কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক এর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।  জনসভার শুরুতে ইসলামী সংগীত পরিবেশন প্রেরণা সাহিত্য সংসদ ও টাইফুন শিল্পী গোষ্ঠী। 


নিউজটি আপডেট করেছেন : অনলাইন ইনচার্জ

কমেন্ট বক্স