ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি পাচ্ছে আজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 14, 2025 ইং
রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি পাচ্ছে আজ ছবির ক্যাপশন: রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি পাচ্ছে আজ
ad728
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে আজ (মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর) রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি। তবে এতে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে কোনো সুপারিশ থাকছে না।

কমিশন জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পরে অন্তর্বর্তী সরকার ও দলগুলোর কাছে আলাদাভাবে দেয়া হবে।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ছাড়া দলগুলো কীভাবে সনদে স্বাক্ষর করবে— জানতে চাইলে আলী রিয়াজ বলেন, দলগুলো যে বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সেটির ভিত্তিতেই তারা স্বাক্ষর করবে। এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল— এটি আগে স্বাক্ষর করা উচিত।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের একটি খসড়া পাঠায় এবং তখন জানানো হয়েছিল, এতে নতুন কোনো সংযোজন বা বিয়োজন করা হবে না। যদিও পরবর্তী সময়ে কেবল কিছু ভাষাগত ও বাক্যগত সংশোধন করা হয়।

অপরদিকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪(ক) বাতিলের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতও কমিশন নিয়েছিল। ওই অনুচ্ছেদে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই বিধান বাতিলের পক্ষে মত দেয়। তবে বিষয়টি সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। জুলাই সনদে আগের মতোই ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই অনুচ্ছেদ ৪(ক) বিলুপ্তির পক্ষে, তাই আগামী সংসদ ক্ষমতায় এলে তারাই এটি বাতিল করবে। এ কারণে নতুন করে প্রস্তাবটি সনদে যুক্ত করার প্রয়োজন মনে করেনি কমিশন।

নতুন প্রস্তাব না রাখার বিষয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “এই সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সংসদ।”

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফা সংলাপের ভিত্তিতে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য গড়ে তোলা হয়, যা নিয়েই তৈরি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। জুলাই মাসেই সনদটি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা ছিল, তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় তা বিলম্বিত হয়।

কমিশন জানিয়েছিল, সনদের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তবে কিছু রাজনৈতিক দলের দাবির পর কমিশন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথ নিয়ে মতবিনিময় করে। আলোচনায় দলগুলো নীতিগতভাবে একমত হয় যে, এটি গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়া উচিত। কিন্তু গণভোটের সময়, পদ্ধতি ও কাঠামো নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে যায়। যার কারণে এখন কমিশন বিশেষজ্ঞ মতামত ও রাজনৈতিক দলগুলোর মত একত্র করে সরকারের কাছে একটি বাস্তবায়ন প্রস্তাবনা দেবে।

আগামী শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এরই মধ্যে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই আয়োজনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সহায়তা করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটকে সইয়ের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে সব দল শেষ পর্যন্ত সই করবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তুত হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। দুই দফা আলোচনায় ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : অনলাইন ইনচার্জ

কমেন্ট বক্স