বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতকে সতর্ক থাকতে হবে। আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং প্রশাসনে আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশকে রক্ষার জন্য সবাইকে তৈরি থাকতে হবে। যারা পরীক্ষিত তাদেরকে ক্ষমতায় আনতে হবে। গণহত্যাকারীরা যেন আবার ফিরে আসতে না পারে সেদিকে দেশবাসীকে সোচ্চার থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে আসলে নিরাপদে থাকবে এটা জনগণ বিশ্বাস করে না। সতর্ক না থাকলে আমাদের বিপদ আসতে পারে।’
সমাবেশে দুদু বলেন, একটি কথা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে। গণহত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। ব্যাংক, বীমা, বাংলাদেশের যা কিছু অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল, সেগুলোকে ধ্বংস করে চূড়ান্তভাবে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এর মানে তারা আমাদের পঙ্গু করার চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। তারা একেবারে চলে গেছে, এটি যদি আমরা সত্যি ধরে নিই, তাহলে সেটাও ভুল হবে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপসারণের দাবি জানিয়ে শেখ হাসিনার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আগামী দিন যদি আমরা প্রস্তুত না থাকি, আমাদের বিপদ আসতে পারে। আমাদের দেশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এমন একটি দলকে আগামী দিনে ক্ষমতায় আনতে হবে যারা পরীক্ষিত এবং মানুষের কথায় বিশ্বাস করে; যারা কথা দিলে তা রক্ষা করে। আমার মনে হয় সেই দল হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যার মার্কা ধানের শীষ এবং নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। এই কথাটি আমাদের মনে থাকতে হবে এবং আগামী দিনে শপথবদ্ধ হতে হবে যে ফ্যাসিস্টরা—যারা হত্যাকারী ও গণহত্যাকারী—তারা যেন কখনো ফেরত আসতে না পারে; সেটাই আমাদের লক্ষ্য হবে। আমি মনে করি, এ ছাড়া কোনো পথ নেই।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, শাহা নেচারুল হক, কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহা আব্দুল্লাহ আল বাকি, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজি, কৃষক দল নেতা শফিকুল ইসলাম সবুজ, রমিজ উদ্দিন রুমি, রবিউল ইসলাম তালুকদার রবি, আমির হোসেন দানেজ, মো. মুসা ফরাজী প্রমুখ।