প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 21, 2025 ইং
ভেনেজুয়েলার আরও এক ট্যাংকার জাহাজ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলার আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড বাহিনী। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম গতকাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় নোম জানিয়েছেন, দু’টি কারণে ট্যাংকারটি জব্দ করা হয়েছে— প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলা এবং দ্বিতীয়ত, তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজগুলোকে তেল পরিবহনের পাশাপাশি মাদক পাচারের জন্যও ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার সরকার।
এক্সপোস্টে ক্রিস্টি নোম বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও অবৈধ তেল বাণিজ্য এবং তার আড়ালে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান চলমান থাকবে। আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব এবং থামাব।”
গতকাল শনিবার ভোরের দিকে ট্যাংকারটি জব্দ করে মার্কিন কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। এই নিয়ে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ১০ ডিসেম্বর প্রথম জাহাজটি জব্দ করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে যখন প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প, সে সময় থেকেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করতেন তিনি। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ব্যাপারে তার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার জাহাজগুলোর ওপর সর্বাত্মক অবরোধ জারি করেছেন। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বেশ কিছু ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ভেনেজুয়েলার যে কোনো ট্যাংকার জাহাজ দেশটির বন্দর ছেড়ে গেলে বা ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলেই সেগুলোকে জব্দ করা হবে।
তিনি এই ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় এই ট্যাঙ্কার জাহাজটি জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড বাহিনী।
জাহাজটি জব্দ হওয়ার তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে মার্কিন কোস্টগার্ড বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে কোস্টগার্ড ও পেন্টাগনের কোনো কর্মকর্তা এ ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। কয়েক জন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার: দৈনিক প্রথম সংবাদ