প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 30, 2025 ইং
মেট্রোরেল দূর্ঘটনায় নিহত আজাদের সন্তানের দায়িত্ব নিলেন সাবেক এমপি কিরণ

প্রতিনিধি ,শরীয়তপুর:
রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রো রেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে নিহত আবুল কালাম আজাদের দুই সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শফিকুর রহমান কিরণ।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে তিনি নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামে নিহত আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি নিহতের দুই সন্তানের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেন এবং পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, আমি যেহেতু নড়িয়া-সখিপুর নির্বাচনী এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী, তাই এসে দেখেছি বাচ্চাগুলো ছোট। তাদের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিয়েছি। পাশাপাশি বিএনপি আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে নিহত আজাদের স্ত্রীকে একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমরা শুধু একটি সন্তান হারাইনি, আমার এলাকার এক কর্মক্ষম তরুণকেও হারিয়েছি। এই কষ্ট সরকার ভোগ করবে না, ভোগ করবে পরিবার ও আমাদের সমাজ। কোনো ক্ষতিপূরণ দিয়েই একজন কর্মক্ষম মানুষকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তার পরও পরিবারের কথা চিন্তা করে আমি ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যদি তা না পায়, তাহলে আদালতের আশ্রয় নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং আমরা ন্যায়বিচার পাবো, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, এটা কোনো ছোট দুর্ঘটনা নয়। একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় প্রকল্প মেট্রো রেল। এখানে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এটা কোনো ত্রিশ লাখ টাকার বাস দুর্ঘটনা নয় কিংবা একটা রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে যায়নি। এটা অবহেলা ও নিম্নমানের কাজের ফল। সরকারকে এই সতর্কতার খেসারত দিতে হবে
সাবেক এমপি কিরণ বলেন, আমি পৃথিবীর ৮৮টা দেশে ঘুরেছি। কিন্তু কোথাও এমন ঘটনা দেখিনি—বিয়ারিং প্যাড খুলে নিচে পড়ে যাবে।
দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। আমি নিজেও মনে করি যারা কাজ করেছে তারা সঠিকভাবে নজরদারি করেনি। নিম্নমানের বিয়ারিং প্যাড ব্যবহার করেছে। সেখানে সেন্সর বসানো উচিত, যাতে যেকোনো সমস্যা মুহূর্তে শনাক্ত করা যায় এবং অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের দিয়ে তা তত্ত্বাবধান করা হয়।
এছাড়াও জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকেও নিহতের পরিবারের জন্য একটি অনুদান অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে, যা সপ্তাহখানেকের মধ্যেই হস্তান্তর করা হবে জানান বিএনপির এই নেতা। এ সময় নিহত আবুল কালামের পরিবার প্রতিবেশী স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার: দৈনিক প্রথম সংবাদ