সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি গাইবান্ধা মহোদয়ের দিকনির্দেশনা মোতাবেক জেলার সাত উপজেলার মধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে দফায় দফায় বন্যার ধকল সামলাতেই হিমশিম কৃষি বিভাগ, তারপরেই আবার রোপা আমনের বাদামী গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) বা ব্যাকটেরিয়া লিভ ব্লাইড (বিএলবি)র আক্রমণ দেখা দিয়েছে কিছু কিছু জায়গায় ব্যাপক। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধান গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছে আমন চাষি প্রান্তিক কৃষকরা। তাই উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা কৃষকদের কারেন্ট পোকা দমনে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছেন এবং আগাম সতর্কতা মূলক লিফলেট, গ্রুপ মিটিং, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম, মুসল্লিদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ প্রদান করা করছে।
এই কার্যক্রম ধান কর্তন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব ভট্টাচার্য্য। তিনি আরো জানান,কারেন্ট পোকার আক্রমণ দমনে কৃষি বিভাগ মাঠে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করা। তারা কৃষকদের আক্রান্ত ক্ষেতে বালাইনাশক ছিটানোর পরামর্শ দিচ্ছে এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করছে, যেমন প্রতিরোধক জাতের ধান চাষ করা।
উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রব সরকার জানান, কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, কারণ এটি দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে ফসলের ক্ষতি করে তাই আমরা মাঠে কাজ করছি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও।
উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব ভট্টাচার্য্য বলেন, এবার সাদুল্লাপুরে ১৬ হাজার তিনশত ৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এই পোকা খুব দ্রুত মাঠের পর মাঠ ছড়িয়ে পড়ে এবং ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস করতে পারে। আমন মৌসুমে সেপ্টেম্বর মাসে এরা ডিম পাড়ে এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এদের আক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাদামী গাছ ফড়িং রস চুষতে শুরু করে। এতে গাছ দুর্বল হয় এবং পাতার গোড়ার দিক থেকে হলুদাভ রং ধারণ করে। এই আক্রমণে ধান গাছগুলি মারা যেতে ১০–১৫ দিন সময় নেয়। তাই আমার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ে রোগবালাই দমন ও প্রতিরোধে নানা কৌশল এবং ওষুধের ব্যবহার বিষয়ে কৃষকদের ধারণা দিয়ে উঠান বৈঠক এবং লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছেন।